অ্যাক্ট কি?

অ্যাক্ট (অ্যাকশন, কোলাবোরেশন, ট্রান্সফরমেশন) হল পোশাক, বস্ত্র পাদুকা শিল্পের রূপান্তরে এবং ক্রয়ের অভ্যাসের সাথে সম্পৃক্ত শিল্পক্ষেত্রে যৌথ দরকষাকষির মাধ্যমে শ্রমিকগণের জন্য বাঁচার মত মজুরী অর্জন করতে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড ও খুচরা বিক্রেতা এবং ট্রেড ইউনিয়নের মধ্যে একটি যুগান্তকারী চুক্তি।

শিল্পক্ষেত্রে যৌথ দরকষাকষি এর মানে হল কোন দেশের পোষাক ও বস্ত্র শিল্পের শ্রমিকগণ যে কারখানাতেই কাজ করুক না কেন বা যে খুচরা বিক্রেতা বা ব্র্যান্ডের জন্যই উৎপাদন করুক না কেন, তারা একই শর্তাধীণে তাদের বেতন নিয়ে দরকষাকষি করতে পারবে। ক্রয়ের অভ্যাসের সাথে এর যুক্ত থাকার মানে হল দরকষাকষির মাধ্যমে চূড়ান্ত করা বেতন প্রদান আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড ও খুচরা বিক্রেতার সাথে চুক্তির শর্তাবলী দ্বারা সমর্থিত এবং উপলভ্য। অ্যাক্ট হল এই সেক্টরে বাঁচার মত মজুরীর প্রথম আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতি যা বাঁচার মত মজুরী অর্জনে ব্র্যান্ড, খুচরা বিক্রেতা, ট্রেড ইউনিয়ন, উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ও সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে নিজ নিজ দায়িত্ব ও ভূমিকা পালনের জন্য একটি রূপকল্প প্রদান করে।

অ্যাক্ট এর সদস্যবৃন্দ নিম্নলিখিত নীতিসমূহে সম্মত হয়েছেন:

  • এমন একটি যৌথ কর্মপরিকল্পনা প্রয়োজন যেখানে আন্তর্জাতিক সাপ্লাই চেইন এর সকল অংশীদার যেকোন সংগঠনে যুক্ত হওয়ার স্বাধীনতা, যৌথ দরকষাকষি ও বাঁচার মত মজুরী অর্জনে তাদের স্ব স্ব দায়িত্ব গ্রহন করবে।
  • উৎপাদনকারী দেশসমূহে নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ও শ্রমিক এবং শিল্প ক্ষেত্রে তাদের প্রতিনিধিগণের মধ্যে যৌথ দরকষাকষির মাধ্যমে বাঁচার মত মজুরী সম্পর্কিত চুক্তিতে পৌছাতে হবে।
  • আইএলও নীতি অনুসারে শ্রমিকগণ স্বাধীনতা উপভোগ করবে এবং তাদের সংগঠিত হওয়া ও যৌথভাবে দরকষাকষি করার অধিকার থাকবে।

“অ্যাক্ট একটি যৌথ লক্ষ্যে ব্র্যান্ড, খুচরা বিক্রেতা ও ট্রেড ইউনিয়নকে একত্রিত করে; লক্ষ্যটি হল বস্ত্র শিল্পের শ্রমিকগণের জন্য একটি ন্যায্য বাঁচার মত মজুরী অর্জন। এটা একটা যুগান্তকারী সহযোগীতার বন্ধন এবং দীর্ঘস্থায়ী ও পদ্ধতিগত পরিবর্তন আনার একমাত্র উপায়।“

কার্ল-জোহান পারসন, সি ই ও, এইচ এন্ড এম গ্রুপ

 
আমাদের তথ্য পাতা ডাউনলোড করুন

সমঝোতা স্মারক(এমওইউ) ডাউনলোড করুন

প্রশ্ন ও উত্তর ডাউনলোড করুন

অ্যাক্ট কেন প্রয়োজন?

বর্তমানে অধিকাংশ পোশাক ও বস্ত্র উৎপাদনকারী দেশে শ্রমিকগণের বেতন যেটাকে বাঁচার মত মজুরী হিসাবে ধরা যায় তার অনেক কম। এখন আরও বেশী বোঝা যাচ্ছে যে বস্ত্র ও পোষাক সাপ্লাই চেইনে শ্রমিকগণের বেতন বাঁচার মত মজুরীতে উন্নীত করা শুধুমাত্র খুচরা বিক্রেতা ও ব্র্যান্ডের প্রচেষ্টায় সম্ভব নয়। অ্যাক্ট বাঁচার মত মজুরী অর্জনে একসাথে কাজ করার জন্য আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড ও খুচরা বিক্রেতা, ট্রেড ইউনিয়ন, উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ও সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে একই ছাতার নীচে নিয়ে আসতে চায়।

‘ন্যূনতম বেতন নির্ধারণ কৌশল’ শ্রমিকদের বেতন বাঁচার মত মজুরী এর মান-এ উন্নীত করতে অপ্রতুল হিসাবে প্রমানিত হয়েছে। অ্যাক্ট শিল্প ক্ষেত্রে যৌথ দরকষাকষি চুক্তিতে পৌছাতে কাজ করবে যা ন্যূনতম বেতন নির্ধারন কৌশলের উপর প্রতিষ্ঠিত এবং এর মাধ্যমে তা শ্রমিক ও উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের দরকষাকষির মধ্য দিয়ে বাঁচার মত মজুরী অর্জনে সক্ষম হবে। বাঁচার মত মজুরী অর্জনে ক্রয়ের অভ্যাসের ভূমিকা প্রয়োজনীয় হিসাবে ধরা হয়েছে। ক্রয়ের অভ্যাস যেন বাঁচার মত মজুরী প্রদানকে সহজতর করে তা নিশ্চিত করবে অ্যাক্ট এর সদস্যবৃন্দ।

অ্যাক্ট কীভাবে বাঁচার মত মজুরী এর সংজ্ঞা দেয়?

শিল্পক্ষেত্রে যৌথ দরকষাকষির মাধ্যমে নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ও ট্রেড ইউনিয়ন বাঁচার মত মজুরী প্রদানের চুক্তিতে পৌছাবে; অ্যাক্ট এর সদস্যবৃন্দ এই নীতি মেনে চলে।

এর মানে হল আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে নির্ধারিত বেতন জাতীয় প্রেক্ষাপটে ভিন্ন ভিন্ন হবে এবং তা বাহ্যিক মানদন্ডের পরিবর্তে শ্রমিক ও নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয়তার প্রতিফলন ঘটাবে।

অ্যাক্ট এর লক্ষ্য হল বাঁচার মত মজুরী অর্জনের জন্য একটি কৌশল তৈরী করা যা সাধনযোগ্য, কার্যকরী, সম্প্রসারনযোগ্য ও আইনগতভাবে সিদ্ধ এবং অবশ্যই সম্পাদনীয় হবে।

“বাঁচার মত মজুরী প্রদানে কাঠামোগত বাধা ব্যাখ্যা করার মধ্য দিয়ে সম্প্রসারনযোগ্য, টেকসই ও প্রয়োগযোগ্য উপায়ে পোশাক শ্রমিকগণের বেতন বৃদ্ধির সবচেয়ে ভালো সুযোগ রয়েছে অ্যাক্ট এর।“

জেনী হোল্ডক্রফট্, সহকারী সাধারন সচিব, ইন্ডাস্ট্রিঅল

অ্যাক্ট কীভাবে বাঁচার মত মজুরী অর্জন করবে?

শিল্প ক্ষেত্রে যৌথ দরকষাকষি চুক্তি সম্পাদনের লক্ষ্যে অ্যাক্ট উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের জাতীয় প্রতিনিধিগণের সাথে ট্রেড ইউনিয়নের আলাপ-আলোচনার সুযোগ করে দেবে। এসকল চুক্তি আইনগতভাবে সিদ্ধ এবং স্বাক্ষরপ্রদানকারী পক্ষসমূহের জন্য প্রয়োগযোগ্য। এই চুক্তিসমূহ সংশ্লিষ্ট দেশে এই শিল্পের সকল ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হতে পারে এবং একইভাবে ঐ সেক্টরের সকল শ্রমিক এর আওতাভূক্ত হবে।

অ্যাক্ট এর কাজ ব্র্যান্ড ও খুচরা বিক্রেতা, উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ট্রেড ইউনিয়ন এবং সরকারের পারস্পরিক সহযোগীতায় সম্পাদিত হয়। অ্যাক্ট এর সদস্য ব্র্যান্ডসমূহ ও খুচরা বিক্রেতাগণ ক্রয়ের অভ্যাসকে শিল্পক্ষেত্রে যৌথ দরকষাকষির সাথে সম্পৃক্ত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছেন যাতে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানসমূহ আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে নির্ধারিত বেতন ও কাজের পরিবেশ বিষয়ক চুক্তির শর্ত মেনে চলতে পারে।

একইসাথে উৎপাদনের মান ও ব্যবস্থার উন্নয়নে, যেমন দক্ষ মানবসম্পদ ও বেতন ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি গড়ে তুলতে অ্যাক্ট বিভিন্ন দেশের উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সাথে কাজ করবে। এর মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা ও শিল্পোন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। ব্যাবসায়িক নিরাপত্তা এবং উৎপাদনকারী দেশ ও প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রতিশ্রুতি বাঁচার মত মজুরী প্রদানে সক্ষমতা অর্জনের মূল ভিত্তি।

জন রাগী, জাতিসংঘ মহাসচিবের ব্যাবসা ও মানবাধিকার বিষয়ক প্রাক্তন বিশেষ প্রতিনিধি

“সুবিধা (লেভারেজ) পরিবর্তনের জন্য যৌথ প্রচেষ্টার প্রতিশ্রুতিকে ব্যাখ্যা করে অ্যাক্ট। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, সাপ্লাই চেইনে মানবাধিকারের তীব্র ঝুকি মোকাবেলায় ব্যাবস্থা নিতে কোম্পানীসমূহের নিজেদের একটি দায়িত্ব পালনের উপলব্ধির ফলাফল হল অ্যাক্ট এর মত উদ্যোগসমূহ। এই দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে অ্যাক্ট টেকসই উন্নয়নেও একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।“
ক্রয়ের অভ্যাস কি?

ক্রয়ের অভ্যাস হল সেই পদ্ধতি যে পদ্ধতিতে আন্তর্জাতিক খুচরা বিক্রেতাগণ ও ব্র্যান্ডসমূহ তাদের পণ্য সরবরাহকারী উৎপাদন প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ ও ব্যাবসা করে থাকে। ক্রয়ের অভ্যাসের মধ্যে রয়েছে কৌশলগত পরিকল্পনা, সংগ্রহ, উন্নয়ন, পার্চেজিং (ক্রয়) ও এর অন্তর্নিহিত আচরণ, মান এবং নীতি যা শ্রমিকগণকে প্রভাবিত করে।

শিল্পক্ষেত্রে দরকষাকষি ন্যূনতম বেতন নির্ধারণ কৌশল থেকে কীভাবে আলাদা?
ন্যূনতম বেতন হল একটি দেশ বা সেক্টরে আইনগতভাবে সিদ্ধ সর্বনিম্ন বেতন। এটি সাধারণত সরকার দ্বারা নির্ধারিত হয়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে সরকার এ ব্যাপারে ট্রেড ইউনিয়ন ও নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিগণের সাথে পরামর্শ করে থাকে। বস্ত্র ও পোশাক প্রস্তুতকারী দেশসমূহে এই ন্যূনতম বেতন সাধারণত বাঁচার মত মজুরী থেকে কম।

বেতন নির্ধারণ ও কর্মসংস্থানের অন্যান্য শর্ত যা এই শিল্পের জন্য উপযুক্ত এবং যেগুলো বাস্তবায়নে ট্রেড ইউনিয়ন ও উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিগন সম্মত হয়েছেন তার মাধ্যমে ন্যূনতম বেতন নির্ধারণ কৌশলের উপর ভিত্তি করে শিল্পক্ষেত্রে যৌথ দরকষাকষির প্রচলন হয়।

শিল্পক্ষেত্রে যৌথ দরকষাকষি চুক্তির সুবিধাসমূহ কি কি?
  • উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি ও শিল্পোন্নয়নে সহযোগীতা
  • দক্ষতা তৈরী; যাতে নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ও ট্রেড ইউনিয়নের কম রিসোর্সের প্রয়োজন হয়
  • বিনিয়োগ ও বৃদ্ধির জন্য ব্যাবসায় নিশ্চয়তা প্রদান
  • দক্ষতা বৃদ্ধি ও যোগ্য শ্রমিকগণকে রাখতে সহযোগীতা করা
  • একটি ‘সাধারন নীতি’ তৈরীর মাধ্যমে শ্রমিক কাজে লাগানোর প্রয়োজনীয়তা ও শ্রমিকের জন্য ব্যয় কমিয়ে ফেলা
  • নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ও শ্রমিকগণের মধ্যে সামাজিক শান্তি ও গঠনমূলক সম্পর্ক নিশ্চিত করা
  • অর্থনৈতিক নমনীয়তার ব্যাবসায়িক প্রয়োজন ও শ্রমিকগণের মৌলিক নিরাপত্তার প্রয়োজনীয়তায় পুঙ্খানুপুঙ্খ সমাধান প্রদান করা
  • অভিবাসী শ্রমিক, চুক্তিভিত্তিক শ্রমিক ও ছোট প্রতিষ্ঠানে কাজ করা শ্রমিকসহ আরও অনেক শ্রমিক একটি যৌথ চুক্তির আওতাভূক্ত তা নিশ্চিত করা
  • নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানসমূহ যেন নব্যতাপ্রবর্তন ও মানের ভিত্তিতে প্রতিযোগিতা করে এবং কম মূল্য প্রদান ও বাজে শর্ত আরোপের মাধ্যমে অন্যরা যেন তাদের ক্ষতি করতে না পারে তা নিশ্চিত করা